garo wangala danceWanna folk Dancegaro wangala dance

ফা সোনারাম রংরকগ্রি সাংমা-ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীন গারো রাজ্যের স্বপ্নদ্রষ্টা

ফা সোনারাম রংরকগ্রি সাংমা-ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীন গারো রাজ্যের স্বপ্নদ্রষ্টা

রুয়েল সি. সাংমা

“তোমরা চাইলে আমাকে বন্দুকের গুলি দিয়ে মেরে ফেলতে পারো এবং আমার মৃতদেহ মান্দা নদীতে ফেলে দিতে পারো, কিন্তু আমাকে কথা দিতে হবে আমার এই মৃতদেহ যতদূর পৌঁছাবে ততদূর হবে গারোজাতির এলাকা।”

ব্রিটিশ সৈন্যদের বন্দুকনলের মুখে ঠিক এমনটি সাহসী উক্তি করেন ফা সোনারাম সাংমা। তিনি ছিলেন গারো জাতির মধ্যে প্রথম রাজনৈতিক নেতা, তাকে গারো জাতির রাজনীতির পথপ্রদর্শক্ও বলা হয়।  

জন্ম, শিক্ষা ও কর্মজীবন

ফা সোনারাম সাংমা ছিলেন ক্লাং জি মমিন ও চাম্রি আর সাংমা যুগলের দ্বিতীয় সন্তান। তিনি গারো পাহাড়ের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের রংরকগ্রি গ্রামের নচিরংদিক নামক ছোট্ট এক পাহড়ি পল্লীতে জন্মগ্রহন করেন। তার সঠিক জন্ম কবে তা কখন্ও জানা যায়নি, তবে ১৮৮৯ সালে তার বিবাহের রেজিষ্ট্রিতে তার বয়স ২২ বছর লিপিবদ্ধ ছিল। ফা সোনারামের পাঁচ ভাই-বোন ছিল। তাদের মধ্যে উলনি আর সাংমা ছিলেন অগ্রজ, বাকি চারজন ছিলেন অনুজ, তারা হলো- মেদিনি আর সাংমা, মাত্রাং আর সাংমা, রোচি আর সাংমা এবং সমরসিং আর সাংমা।

তিনি প্রথমে নিশাগ্রামের লয়োয়ার প্রাইমারী (এল পি) স্কুল ও পরে তুরার আমেরিকান ব্যাপ্টিস্ট মিশন স্কুলে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। তিনি থকজি জি মমিনকে বিয়ে করেন। তার স্ত্রী থকজি জি মমিনও আমেরিকান ব্যাপ্টিস্ট মিশন গার্লস স্কুলে পড়াশোনা করেন। তাদের ছয় সন্তান ছিল । তারা হলেন – নমি জি মমিন, শিলমান জি মমিন, রতন জি মমিন, সুনালসিং জি মমিন, প্রেমি জি মমিন, এমি জি মমিন। পড়াশোনা শেষে তিনি সরকারের গণপূর্ত (পি ডাব্লিউ ডি) বিভাগে যোগদান করেন। তিনি সেখানে ১০ বছর কাজ করেন। তারপর তাকে গারো পাহাড়ের জেলা প্রশাসক টিকা পরিদর্শক হিসাবে নিযুক্ত করেন।

সোনারাম সাংমার সংগ্রামের পটভূমি

গারোদের ইতিহাস অনুসন্ধান করলে দেখা যায় অনাদিকাল থেকেই তারা অন্যায়, অবিচার, জুলুম রুখতে কখনও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী জনগণ, আবার কখনও জমিদারদের সাথে ক্রমাগত দ্বন্দ্বে লিপ্ত ছিল। যখন ভারতবর্ষে ব্রিটিশদের আগমন ঘটল এবং গারো অঞ্চলে তারা প্রবেশ করল, তারাও একইভাবে জমিদারদের মত গারোদের উপর অন্যায়, অত্যাচার শুরু করল। তারা জোড়পূর্বক গারোদের দ্বারা নিজেদের তল্পিতল্পা উঠানামা করাত, তাদের চলাচলের পথ পরিষ্কার করাত, নিজেদের ঘরবাড়ি মুছাত। এছাড়াও তারা গারোদের বনে চলাচল ও চাষাবাদে হস্তক্ষেপ করা শুরু করে। এতে করে গারোরা ব্রিটিশদের সাথেও বিবাদে লিপ্ত হলো। তখনও কেবল অন্যায়-অত্যাচারের শিকার লোকেরাই, সেসব অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছিল। এমনতাবস্থায়, গারোদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া খুব দরকারি ছিল। তখন ফা সোনারাম সাংমা গারোদের সর্বপ্রথম ঐক্যবদ্ধ করার পদক্ষেপ নেন এবং একটি গণতান্ত্রিক গণআন্দোলন গড়ে তুলে তাঁর নেতৃত্ব দেন।

ফা সোনারামের নেতৃত্বের সূচনা

তিনি তার পেশাগত কারণে গারো অঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমণ করেন এবং গারোদের উপর অন্যায়, অবিচারের বিষয়টি লক্ষ্য করেন। হাবরাঘাট পরগণা ও নাজারানার জমির মালিকানা, সীমানা নিয়ে গারো নকমা, লাসকারদের সাথে বিজনির রাণী ও জমিদারদের বিরোধ ছিল। বিজনি জমিদার বারবার গারোদের জমির উপর পিলার স্থাপনের মাধ্যমে বেদখলের চেষ্টা করে, কিন্তু প্রতিবারই গারোরা তাদের প্রতিরোধ করে। ১৯০০ সালে তেমনি এক ঘটনায় জমি বেদখলের উদ্দ্যেশে বিজনিরা দিলমা ও রেসুতে পিলার স্থাপনের চেষ্টা করলে গারোরা তাদের প্রতিরোধে করে। পরের বছর বিজনিরা আবার ফা সোনারামের শ্বশুরবাড়ি রহুমারিতে জমি বেদখলের উদ্দ্যেশে পিলার বসায় । সেবার গারোরা পিলারগুলো ভেঙ্গে ফেলে। এই ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। কিন্তু পরের বছর অন্য এক এলাকায় কিছু পিলার ভেঙ্গে পড়ে ছিল বলে এ বিষয়ে বিজনি মামলা দায়ের করে এবং কয়েকজন গারোকে গ্রেফতার ও শাস্তি প্রদান করা হয়। গারো নকমা ও লাস্কররা প্রায়ই এসকল সম্যসার সমাধানের পরামর্শ নিতে ফা সোনারামের দ্বারস্থ হতো। সমস্যা প্রকট হতে থাকলে তারা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ অনুভব করে এবং ফা সোনারামকে গণ-আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আহব্বান জানান।

চারটি মুখ্য বিষয়কে সামনে নিয়ে গণ আন্দোলনের শুরু হয়। এগুলো হলোঃ

১. হাবরাঘাট মামলা

. নাজারানা মামলা

৩. বন সংরক্ষন বাতিল

৪. বেগার প্রথা বাতিল।

হাবরাঘাট ও নাজারানা মামলা হলো বিজনির সাথে হাবরাঘাট পরগণা ও নাজারানার জমি সংক্রান্ত বিরোধ। গারোরা বংশপরম্পরায় সেসব এলাকায় বাস করে এসেছে তাঁর বিভ্রান্তমূলক সীমান্ত গঠনের জেরেই এসব বিরোধের সূত্রপাত। গারো এলাকায় ইংরেজদের শাসন শুরু হলে ইংরেজরা গারোদের বিনে পয়সায় ব্যাগ বহনে বাধ্য করে । এটা তখন বেগার প্রথা বলে পরিচিত ছিল। গারো পাহাড়ের বনগুলোতে গারোদের চলাচল ও জুম চাষ বাঁধার সম্মুখীন হয় যখন ব্রিটিশ শাসকরা বন সংরক্ষন আইন পাশ করে। এগুলোর ইতিহাস আগামী দিনগুলোতে আলোচনা করা যাক।

১৯০০ সালে ১১ই এপ্রিল নিজেদের অধিকার আদায়ে প্রথম কোনো যৌথ পদক্ষেপ নেয় গারোরা। ফংফং লাসকার ও আরও পাঁচ জন মোট ছয়জন মিলে বিজনি রাণীর বিপক্ষে জমি বেদখলের অভিযোগ এনে আসামের চিফ কমিশনারের কাছে একটি পিটিশন দাখিল করে। ১৯০২ সালে একই বিষয়ে আরেকটি স্মারকলিপি দাখিল করা হয়। তবে এই দুই ক্ষেত্রে ফা সোনারাম যুক্ত ছিলেন না।

১৯০২ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে ফা সোনারামের নেতৃত্বে সাত’শ গারো হাবরাঘাট পরগণার ব্রহ্মপুত্র নদের দলগোমা ঘাট পর্যন্ত যাত্রা করে। সেখানে তারা অস্থায়ী শিবির স্থাপন করে। তারা ঐ অঞ্চলকে গারো রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করে এবং ঐ অঞ্চলের জমিদারের কাছে ভাড়া প্রদানকারীদের পরবর্তী থেকে ভাড়া না দিতে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সরকারের আইন রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে দ্রুততম সময়ে পৌঁছায় এবং ফা সোনারাসহ আরও কয়েকজন নেতা আটক হন। তিনি জেরার আগে ও পরে তার আইন উপদেষ্টা উকিল জাকবের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। তাই তিনি কোলকাতায় লোক পাঠান। পরে জাকব সোনারামের পক্ষে আদালতে লড়তে চাইলেও তাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি।

৩রা ফেব্রুয়ারী, ১৯০৩ সালে গারো পাহাড় সংলগ্ন জেলার ডিসি ফা সোনারামকে রক্ষায় ঐদিন থেকে ৩ বছর ভালো আচরণসমেত নগদ ১০,০০০ করে দুটি জামিনের একটি আজ্ঞা জারি করেন। কিন্তু ফা সোনারাম তা আমলে নেননি যে কারনে তার বিরুদ্ধে মামলা চালু হয়। আসাম দায়রা জজ আদালত তাকে কারাদন্ডে দন্ডিত করে। তার জামিন না হওয়ায় তার নগদ জামানতের পরিমাণ কমিয়ে ৫০০ রূপি করা হয়।

অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকার বিজনি ও গারোদের বিরোধের অবসানে নানা রকম চেষ্টা চালাতে থাকে। ১৯০২ সালের ২রা নভেম্বর, চৌদ্দজন গারো নকমা ও বিজনির রাণীর মাঝে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি মোতাবেক গারোদের নাজারানার জমির উপর সকল দাবি দাওয়া তুলে নিতে হবে বিনিময়ে তারা বিজনির নাজারানা মহলের রাজস্বের ২৫ শতাংশ ভোগ করবে। ফা সোনারাম এটি জানতে পেরে নকমাদের এই চুক্তির টাকা গ্রহনে মানা করেন এবং নকমারা তার কথা মত রাজস্বের টাকার মানি অর্ডার ফিরিয়ে দেয়।

১৯০৪ সালে চিফ কমিশনারের নির্দেশে ফা সোনারামকে খালাস দেওয়া হয়। খালাসের পর তিনি কোলকাতার আলিপুরে ছিলেন। ১৯০৪ সালের ৮ই জুলাই, চিফ কমিশনারের নিকট, তাকে অন্যায্য বিচারের মাধ্যমে জেলে পাঠানোর অভিযোগ জানিয়ে সেটার সুষ্ঠু তদন্তের ও নগদ ৫০০ রূপির জামানতের আদেশের বাতিল ও বিজনির সাথে বন্ধুত্বসুলভ একটি মীমাংসার আর্জি জানিয়ে  একটি স্বারকলিপি প্রদান করেন। এরপর ভারতবর্ষের তৎকালীন ভাইসরয় এবং গভর্নরের নিকট হাবরাঘাট পরগণা ও নাজারানয় বিজনির জমি বেদখলের নালিশ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আর্জি জানিয়ে আরও চারটি স্বারকলিপি প্রেরণ করা হয়।

ব্রিটিশ সরকার ফা সোনারামের মুক্ত চলাফেরায় চিন্তিত হয়ে পড়ে। ১৯০৫ সালের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে ফা সোনারামের স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি তাকে দেখতে কোলকাতা থেকে গোয়ালপাড়ায় যান। ১৯০৫ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ফিরতি পথে ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা ১১০ এর অধীনে পরোয়ানা দিয়ে হঠাৎ তাকে দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে গোয়ালপাড়া থেকে দামরা জেলে হস্তান্তর করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি দৃঢ়ভাবে পুরো হাবরাঘাট পগণার মালিকানা দাবি জানান। ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশে তার ৩ বছর ভালো আচরণসমেত জামানতের জন্য ১০০০০ রূপি ধার্য করে, অন্যথায় ৩ বছরের কারাদন্ডের বিধান জারি করে।

গারোদের দাঙ্গা ঠেকাতে দামরার কাছাকাছি ধেপায় মিলিটারি ফাড়ি বসানো হয়। এসময় কিছু কিছু গারো নকমারা সকারের কর প্রদান করা বন্ধ করে দেয়। গারোদের দ্বারা জোর করে কাজ করানো বন্ধ হয়ে যায়। এমনই অবস্থা হয়েছিল যে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে গারো পাহাড়ের ডিসি’র গারো নকমাদের কাছে থাকা বন্দুকগুলো জব্দ করতে হয়েছিল। আইনী কঠোরতা সত্বেও তিনি চাইলে সেসময় পালাতে পারতেন। এই দাঙ্গা গারোদের মধ্যে মূল আন্দোলনে জয়ী হবার বিশ্বাসকে দৃঢ় করে তোলে। অনেক নকমা তাদের সম্পত্তি বিক্রি করে সেই টাকা এই আন্দোলনের জন্য ফা সোনারামের হাতে তুলে দেন। ফা সোনারামের নেতৃত্বের প্রতি তাদের এতটাই বলিষ্ঠ বিশ্বাস ছিল। মি. জ্যাকসন ও সুরেন্দ্রনাথ ঘোষাল ফা সোনারামের পক্ষে এই মামলায় প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৫ই জুলাই ১৯০৫ সালে ফা সোনারামকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হয়। শর্ত ছিল এই যে, তিনি যদি কখনো গারো পাহাড়ের এদিকে আসেন তবে আইনী হেফাজতে নেওয়া হবে।

২৩শে আগষ্ট ১৯০৫ সালে, ফা সোনারাম বন সংরক্ষন ও নাজারানা জমির বিষয়ে আরেকটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। ৩রা অক্টোবর এবং ২৩শে নভেম্বর সরকারের কাছে দুটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

১. ৩রা অক্টোবরের স্মারকলিপি তিনি আর্জি জানান যে, বিজনির সাথে যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছিল সেই চুক্তির অন্তর্ভুক্ত খুটিনাটি সকল বিষয়ে গারোদের নকমাদের পরিষ্কার করতে।

২. দ্বিতীয় স্মৃতিস্মারকে তিনি গোয়ালপাড়া ও গারোপাহাড়ের নির্দিষ্ট কিছু জমি নিয়ে গারো ও বিজনি রাণীর সাথে যে বিরোধ তার সুষ্ঠু তদন্তের এবং বেগার প্রথা বাতিল ও বন সংরক্ষন আইন বাতিলের প্রার্থনা করনে। ৯ই ফেব্রুয়ারী, ১৯০৬ সালে ফা সোনারাম প্রায় এক লক্ষ গারো জনগণের স্বাক্ষরিত দুটি স্মারকলিপি তৎকালীন ভারতবর্ষের ভাইসরয় ও গভর্নর জেনেরেলের নিকট প্রেরণ করেন। এগুলোতেও বনসংরক্ষন আইন বাতিল ও বেগার প্রথা বাতিলের আর্জি জানানো হয়।

তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলো

শেষকাল পর্যন্ত তিনি ধুবিরাম থেকে কোলকাতায় আসা যাওয়ায় ব্যস্ত ছিলেন। কোলকাতায় তিনি আইনী পরামর্শের জন্য যেতেন। তিনি ১৯১৬ সালের ২৭শে আগাষ্ট মারা যান। তাকে বারাকপুর খ্রিষ্টান কবরস্থানে সমাহিত করা হয়। ফা সোনারাম তার পুরো জীবন গারোজাতির অধিকার ও ন্যায়লাভের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি আজীবন একটি সমন্বিত গারো অধ্যুষিত এলাকার স্বপ্ন দেখে গেছেন। তার জীবন, ত্যাগ ও আদর্শকে আমরা এখনও গভীর শ্রদ্ধার সাথে প্রতি বছর ২৭শে আগাষ্ট স্মরণ করি। আরো পড়ুন

Reference

Sonaram R. Sangma (A Study of his Life and Works as a Garo Nationalists) M. S. Sangma

https://shodhganga.inflibnet.ac.in/bitstream/10603/67159/11/11_chapter%205.pdf

Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus (0 )
error: Content is Copywrite!