Wanna folk Dancegaro wangala dancegaro wangala dance

গারো অঞ্চলে প্রথম ক্যাথলিক মণ্ডলীঃ রাণীখং মিশনের ইতিহাস

ফাদার ফ্রান্সিস ১৯১৫ খ্রিঃ শেষ দিকে থাউশালপাড়া গ্রাম থেকে রাণিখং এ মিশন স্থানান্তর করেন। স্থায়ী মিশনের নামকরণ করা হল রাণীখং মিশন এবং গির্জার প্রতিপালক হিসাবে নাম রাখা হল সাধু যোসেফের গির্জা।

গারো অঞ্চলে প্রথম ক্যাথলিক মণ্ডলীঃ রাণীখং মিশনের ইতিহাস

রুয়েল সি. সাংমা

First Garo Mission: Ranikhong Mission

তখন ১৯০৯ খ্রিঃ তারিখে গারো প্রতিনিধি দলের ৫ জন উজির রুরাম, জিরিং হাজং, থুদিং হাজং, থিমান দাংগো এবং সিন্ধু রুগা পাহাড়ি ফল নিয়ে ঢাকার লক্ষ্মীবাজার সেন্ট গ্রেগরী মিশনে তৎকালীন বিশপ পিটার যোসেফ হার্থ এর সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন । তাঁরা থাউশালপাড়া থেকে পায়ে হেঁটে শ্যামগঞ্জ পর্যন্ত ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশ্যে গেলেন। কারণ সেই সময় শ্যামগঞ্জ থেকে ঢাকা যাওয়ার রেলপথে যাতায়াত ব্যবস্থা ছিল। ঢাকা পৌঁছানোর পর পুরাতন ফুলবাড়ি রেল স্টেশনের কাছেই সিন্ধু রুগার পরিচিত জগত বাবু নামক জৈনক এক শিক্ষকের সাথে তাদের দেখা হয় । তিনি তাদেরকে তাঁর নিজ বাসায় নিয়ে যান। পরের দিন তারা ঘোড়াগাড়িতে চড়ে লক্ষীবাজার মিশনে পৌঁছান। এভাবে গারো প্রতিনিধি দল পরপর তিনবার বিশপ হার্থের নিকট যাতায়াত করেন কিন্তু বিশপ হার্থ তাঁদের আশ্বস্থ এবং কিছু ধর্ম শিক্ষার বই ছাড়া কিছুই করতে পারলেন না।

১৯১০ খ্রিঃ তারিখে বিশপ পিটার যোসেফ হার্থ যখন ঢাকা ত্যাগ করেন তখন তিনি এ বিষয়ে পরবর্তী বিশপকে অবহিত করে যান এবং গারো অঞ্চলে কাজ করার জন্য কিছু অর্থ বরাদ্দ রেখে যান। এরপর তারা ২০/০৮/১৯১০ খ্রিঃ তারিখ ঢাকার তৎকালীন বিশপ ফ্রান্সিস ফ্রেডিরিক লিন্নেবর্ন সিএসসি এবং ফাদার টি.জে ক্রাউ্লী সিএসসি এর সাথে দেখা করে তাদের পরিচয় এবং আগমনের উদ্দেশ্য ব্যক্ত করলেন। কথিত আছে যে, বিশপ ফ্রান্সিস ফ্রেডিরিক আগের রাতে স্বপ্নে দেখেন যে, উত্তর দিক থেকে ঈশ্বরের কাজের জন্য কয়েকজন লোক আসছে তার কাছে। ক্যাথলিক ধর্মের প্রতি তাঁদের গভীর উৎসাহ স্বপ্নে দেখতে পেলেন। তিনি সেই স্বপ্নের কথা সকালে নাস্তার টেবিলে অন্যান্য ফাদার ও ব্রাদারদেরকে জানালেন। এরপর যখন তিনি সত্যি সত্যি কয়েকজন লোকদের দেখলেন তখন তিনি খুব আশ্চর্য হলেন। অর্থাৎ ঈশ্বর আগে থেকেই বিশপকে জানিয়েছিলেন যে ঈশ্বরের রাজ্য বিস্তার লাভ করছে। বিশপ আগন্তকদের প্রথমে আশীর্বাদ করে বললেন, তোমাদের উদ্দেশ্য, কামনা বাসনা এবং প্রার্থনা সফল হোক। তোমরা যথার্থই ঈশ্বরের লোক। আমি তোমাদের সাফল্য কামনা করি। এই স্বপ্ন দর্শনের কথা তিনি গারোদেশে মিসাবলী দেয়ার সময় উপদেশ দানকালে খ্রিষ্টভক্তের বলেছিলেন বলে জানা যায়।

বিশপ ফ্রান্সিস ফ্রেডিরিক এর সাথে গারো প্রতিনিধি দলের আলাপের সময় ফাদার ক্রাউলী উপস্থিত ছিলেন। বিশপ ফ্রান্সিস ফ্রেডিরিক এর কাছে জিরিং হাজং তাদের সনাতন সাংসারেক ধর্মের বিস্তারিতক জানান। এবং গারোদের আত্নার মুক্তির জন্য খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার প্রবল আগ্রহ ও বিশ্বাস ব্যক্ত করলে বিশপ তাদের দৃঢ় ইচ্ছা দেখে মুগ্ধ হয়ে তাদের আশ্বাস দিলেন। গারো অঞ্চলে ক্যাথলিক মিশন স্থাপনের জন্য কয়েকজন পুরোহিত পাঠিয়ে দেয়া হবে বলে আশ্বস্থ করলেন। বিশপ তাদের কিছু প্রার্থনা শিক্ষার পুস্তক ও বাংলায় অনুদিত পবিত্র বাইবেল দিয়ে দিলেন । ঐ দিন গারো প্রতিনিধি দল লক্ষ্মীবাজার মিশনে বিশ্রাম নিয়ে পরের দিন প্রফুল্ল মনে তাঁরা গ্রামে ফিরে আসলেন। উল্লেখ্য যে, ফাদার ক্রাউলী তাঁদের কাছ থেকে বিস্তারিত নাম, যোগাযোগের ঠিকানা লিখে রাখলেন।

সেই বছর আনুমানিক ২২/১১/১৯১০ খ্রিঃ তারিখে বিশপ পবিত্র ক্রুশ সংঘের ফাদার জেন মেরী ফ্লেউরী সিএসসি এবং ব্রাদার ইউজিন লেফব্রি সিএসসি মিশনারীকে সর্বপ্রথম গারোদেশ ময়মনসিংহ জেলার তৎকালিন সুসং দুর্গাপুর থানার অন্তর্গত থাউশালপাড়া গ্রামে প্রেরণ করলেন। তখন উজির রুরাম তাদেরকে নিজ বাড়িতে স্থান করে দিলেন। আগন্তক বিদেশী মিশনারী ফাদারদের দেখতে এবং ঈশ্বরের মঙ্গল বার্তা শুনতে গ্রামের সমস্ত লোকজন এসে ভিড় জমাতে লাগল। ফাদার ফ্লেউরী সিএসসি এবং অন্যান্য প্রতিনিধিরা থাউশালপাড়ায় বিভিন্ন জায়গায় পরিদর্শন করে গারোদের মধ্যে খ্রিস্টধর্ম প্রচারের সাম্ভাব্যতা যাচাই করলেন । তাঁরা ১০ দিনের মত সেখানে অবস্থান করে ঢাকায় প্রত্যার্পন করলেন। ঢাকায় ফিরে তাঁরা বিশপের নিকট রিপোর্ট পেশ করলেন। ফাদার জেন মেরী ফ্লেউরী সিএসসি এর সন্তোষজনক রিপোর্টের ভিত্তিতেই বিশপ গারো অঞ্চলে প্রচার কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে ১৯১০ খ্রিঃ শেষদিকে ১৯১১ খ্রিঃ প্রথম দিকে ঢাকার বিশপ গারো অঞ্চলে প্রথম মিশন স্থাপন করার উদ্দেশ্যে ফাদার অ্যাডলফ ফ্রান্সিস সিএসসিকে এবং ফাদার টিমথি ক্রাউলিকে থাউশালপাড়া গ্রামে প্রেরণ। ফাদার অ্যাডলফ ফ্রান্সিস তাঁর সাথে বাবু ক্লেমেন্ট দত্তকে ধর্মপ্রচার ও প্রার্থনাদি শিক্ষা দিবার জন্য সঙ্গে নিয়ে আসেন। বাবু ক্লেমেন্ট বর্তমান রাণীখং মিশনের অদূরে থাউশালপাড়া গ্রামের ৮-১০টি পরিবারকে প্রার্থনা এবং সাক্রামেন্ট বিষয়ে শিক্ষা দিয়ে প্রৈরতিক কাজ আরম্ভ করতে লাগলেন। তাঁকে গারোদের ক্যাথলিকদের মধ্যে প্রথম বাঙালি ধর্মপ্রচারকে বলে বিবেচনা করা হয়। তিনি ১৯১১ খ্রিঃ ১৯ মার্চ সর্বপ্রথম সেখানে ২৬ জনকে দীক্ষাস্নান দান করেন।

১। জিরিং আন্দ্রিয় হাজং

২। তীর্থ ফিলোমিনা রুগা (জিরিং আন্দ্রিয় হাজং এর স্ত্রী)

৩। থদিং যোসেফ হাজং (জিরিং আন্দ্রিয় হাজং এর কনিষ্ঠ ভ্রাতা)

৪। উজির রুরাম

৫। থিমান ফ্রান্সিস দাংগ

৬। সংজাম পিটার চিসিম

৭। পৌল মাহা রিছিল

৮। যোহন এডলফ রুরাম

৯। শিবচরণ মোহন চিসিম

১০। মেরী প্রমিলা রুরাম

১১। মেরী রিছিল (উজির রুরাম এর জেষ্ঠ্য কন্যা)

১২। জেমস টমাস রিছিল (উজির রুরামের পুত্র)

১৩। শিশিলিয়া লিনা রিছিল (সতিন মাস্টারের মা)

১৪। মার্থা শোভাষিনী রিছিল (লিনার ছোট বোন)

১৫। লুচি রিছিল (লিনুস মাস্টারের বড় বোন)

১৬। আগ্নেস সব্জি রিছিল (লিনুস মাস্টারের ছোট বোন)

১৭। লিনুস এস রিছিল (সংজাম পিটার চিসিম এর ছেলে)

১৮। যোহন বিশদ রিছিল

১৯। হেলেনা রিছিল

২০। জুলিয়ানা রেমা

২১। যোসেফিন রুরাম

২২। গাব্রিয়েল অর্জুন আজিম

২৩। ডেনিশ ধনেশ্বর হাজং

২৪। জেমে জেমস হাজং

২৫। লুইস স্মৃতি রিছিল (সতিন মাস্টারের মামা)

২৬। আঞ্জেলা সিংগিন হাজং

ফাদার, প্রচারকদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও ধর্ম গ্রহণে আগ্রহ প্রার্থীদের নিজেদের প্রচেষ্টায় ১৯১১ খ্রিঃ ২৮ জুন দ্বিতীয় দফায় আবার ১৩ জনকে দীক্ষস্নান দান করেন।

১। রমণী শিশিলিয়া রিছিল

২। মাগদালেনা যোসেফিনা রিছিল

৩। বোনিফাস ডিমান চিসিম

৪। লুকাস কুইন রিছিল

৫। যাকোব দুর্গা রিছিল

৬। যোয়ান্না শান্তি চিসিম

৭। স্টেফান বৈকণ্ঠ রিছিল

৮। আন্না আমেং মান্দা

৯। হেলেনা আতেম হাজং

১০। মার্সেল হাজং

১১। ভির্জিনা মারাক

১২। মার্থা রামদেব রুরাম (সতিন মাস্টারের পিতা)

১৩। ভির্জিনা জামনী রিছিল (উজির রুরামের স্ত্রী)

১৯১২ খ্রিঃ থাউশালপাড়া গ্রামেই গারো অঞ্চলে প্রথম অস্থায়ী ক্যাথলিক মিশন স্থাপন করেন। বেত, ছন ও বাঁশের সাহায্যে থাউশালপাড়া গ্রামে গারো অঞ্চলে ক্যাথলিক মণ্ডলীর প্রথম গীর্জাঘর নির্মিত হয়। এছাড়াও ফাদারের থাকার জন্য বাংলো, গোয়ালঘর, পাঠশালা, শৌচাগার ও স্নানঘর, এবং রান্নাঘর নির্মান করা হল। সেই সময় গারোদের মধ্যে শিক্ষার গুরুত্ব অনুধাবন করে জিরিং হাজং গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৫-১৬ জন ছাত্র-ছাত্রি যোগাড় করে নিজ বাড়ির কাচারিতে পাঠশালা খুলে শিক্ষা দেওয়ার মহৎ কাজে আত্ননিয়োগ করলেন। উল্লেখ্য যে তিনি মিশন স্থাপনের জন্য ফাদার অ্যাডলফ ফ্রান্সিসকে নিজের প্রায় এক একর জমি দান করলেন। এভাবে ফাদার অ্যাডলফ ফ্রান্সিসের একাকী একবছর মিশনারীর কাজ করার পর ১৯১৩ খ্রিঃ তারখের শেষ দিকে ফাদার ম্যাথিউ কেয়ার্ন্স যোগদান করলেন। দুইবছর কঠোর পরিশ্রম করার পর মিশনারীতে ৪০০ জন ক্যাথলিক গারো ধর্ম বিশ্বাসী অন্তর্ভূক্ত করলেন।

১৯১৩ খ্রিঃ ১৫ নভেম্বর ঢাকার বিশপ ফ্রান্সিস ফ্রেডিরিক লিন্নেবর্ন সিএসসি প্রথম অস্থায়ী মিশন থাউশালপাড়া গ্রামে আগমন উপলক্ষে তৎকালীন সুসং জমিদার তাঁকে আনার জন্য ৭টি হাতি সুসজ্জিত করে শ্যামগঞ্জ রেল স্টেশন পর্যন্ত যান। সেখান থেকে খ্রিস্টান সংকীর্তনের দলের সহিত বিশপকে জাঁকজমকের সাথে অভ্যর্থনা দিয়ে থাউশালপাড়া গ্রামে নিয়ে আসেন। পরদিন বিশপ বাপ্তিস্মপ্রাপ্ত ৪৯ জনকে হস্তার্পন সাক্রামেন্ট দান করেন। তারপর দিন তিনি ঢাকায় ফিরে গিয়ে স্থায়ী মিশন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে ফাদার লাফন্ডকে জায়গা নির্বাচনের জন্য পাঠিয়ে দিলেন। ফাদার লাফন্ড এবং ফাদার ফ্রান্সিস সবকিছু বিবেচনা করে থাউশালপাড়াকে স্থায়ী মিশন স্থাপনের জন্য আদর্শ স্থান বলে মনে হলো না। সেজন্য ১৯১৪ খ্রিঃ প্রথম দিকেই ফাদার ফ্রান্সিস মাধবপুর গ্রামে স্থায়ী মিশন স্থাপনের উদ্দেশ্যে সুসং মহারাজার নিকট কিছু জায়গার জন্য অনুরোধ জানালেন। সুসং রাজা ফাদারকে মাধবপুরের পরিবর্তে রাণিখং এ স্থায়ী মিশন স্থাপনের পরামর্শ দিলেন । রাজা এই বললেন যে গারোদের ভবিষ্যতে সমতল থেকে সরিয়ে পাহাড়ি এলাকায় পুর্বাসিত করা হবে তাই ভবিষ্যতের কথা ভেবে রাণীখং এ স্থায়ী মিশন স্থাপন করাই উত্তম হবে। তখন বর্তমান রাণীখং জায়গাটি গভীর অরণ্য বনজঙ্গল আবৃত টিলা ছিল। ১৯১৪ খ্রিঃ শেষ নাগাদ বনজঙ্গল পরিষ্কার করে টিলাকে মিশন স্থাপনের উপযুক্ত জায়গায় রূপান্তর করলেও জায়গার স্বত্বাধিকার পেলেন না।

পরে ১৯১৫ খ্রিঃ ২৮ আগস্ট ফাদার লাফান্ড রাণীখং টিলা এবং এর পাদদেশের ১৫ একর জায়গার স্বত্বের ব্যাপারে আসামের চীফ কমিশনারের সাহায্য কামনা করে চিঠি লিখেন। অবশেষে মিশন কর্তৃপক্ষ টিলার অধিকার পেলেন। কথিত আছে সুসং রাজা মিশন কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে ন্যায্যমূল্যের চেয়ে তিনগুন বেশি পরিমান খাজনা আদায় করেছিল। পরবর্তীতে এক ইংরেজ রেজিস্টার খাজনার টাকা অনেক কম করে ধার্য করেন এবং মিশনের স্বত্বাধিকার নিশ্চিত করে যান। এরপর ফাদার  ফ্রান্সিস ১৯১৫ খ্রিঃ শেষ দিকে থাউশালপাড়া গ্রাম থেকে রাণীখং এ মিশন স্থানান্তর করেন। স্থায়ী মিশনের নামকরণ করা হল রাণীখং মিশন এবং গির্জার প্রতিপালক হিসাবে নাম রাখা হল সাধু যোসেফের গির্জা।

তথ্যসূত্রঃ

১. Catholic Missions among the Garos of Mymensingh: Some Reflections of its Early History 1909-1942 By David R. Syiemlieh in Reading in History and Culture of the Garos.

২. They Ask If We Eat Frogs: Garo Ethnicity in Bangladesh By Ellen Bal.

৩. গারো অঞ্চলে ক্যাথলিক মিশনারীদের আগমন ১৯০৯-১৯৫৯, রেভাঃ এডমন্ড ই গেডার্ট সিএসসি সম্পাদনা, অনুবাদ সুভাষ জেংচাম।

৪. রাণীখং মিশনের ইতিকথা, ইগ্নেসিউস দাওয়া; সম্পাদিতঃ শতবর্ষ জুবলী ম্যাগাজিন, প্রাণ আমার পরমেশ্বরের মহিমা পায়- ১৯০৯-২০০৯ খ্রিস্টাব্দ ।

৫. সাক্ষাতকারঃ ফাদার পিলসন এবং অন্যান্য .

Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus (1 )
error: Content is Copywrite!