Wanna folk Dancegaro wangala dancegaro wangala dance

গারো সমাজের মাহারী ব্যবস্থাঃ সাংমা মারাক মমিনের উৎপত্তি

গারো সমাজের মাহারী ব্যবস্থাঃ সাংমা মারাক মমিনের উৎপত্তি

রুয়েল সাংমা

সাংমা চাচ্চিঃ

গারোদের চাচ্চি- সাংমা মারাক মমিনের উৎপত্তি সম্পর্কে কিংবদন্তী লোককাহিনী আছে যা দেওয়ানসিং রংমুথু কর্তৃক সোনারাম সাংমা এর কাছ থেকে লোককাহিনীটি সংগ্রহ করেছেন। অনেক বছর পূর্বে বেহারা নামে একলোক আধুনিক এশিয়াটিক রাশিয়ার সিরতী নামক দেশে বসতি স্থাপন করতে এসেছিলেন। তাঁর জাপান এবং আচিক নামে দুজন পরাক্রমশালী ছেলে ছিলো। তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল এহরা। তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং খুবই ধার্মিক মহিলা ছিলেন।

জাপানের ছোট ভাই আচিক রাতের বেলা তাঁর পায়ের উপর দাঁড়িয়ে ঘুমাতে অভ্যস্ত ছিলেন । তাঁর শিষ্যরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন কেন সে দাড়িয়ে ঘুমায়? “আচিক উত্তর দিল আমার বড় ভাই জীবনদায়ী সূর্য দেবতা সাকা মিসি সালজং এর প্রদর্শিত পথ অনুসরণ করে পূর্বদিকে গিয়েছেন। আমি এখানে একটি রাজ্য তৈরি করার জন্য আছি। আমি নিজেকে সবসময় সতর্ক এবং ময়লা বা ধূলিকণা হতে মুক্ত রাখতে চাই। তারপর সে তাঁর শিষ্যদেরকে বলল, তোমরা আমার জন্য উচু মাচাং করে মেঝসহ ঘর তৈরি করে দাও” ।

তাঁর অনুসানকারী শিষ্যরা আচিকের জন্য একটি সাং বা মাচাং ঘর নির্মাণ করে দিল । আচিক তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাং বাড়িতে বসবাস করতে লাগলেন এবং তাঁর পরম শ্রদ্ধেয় মাকে সাং বাড়ির প্রকৃত মালিক হিসাবে গণ্য করতেন । আচিক হচ্ছেন পৃথিবীর প্রথম ব্যক্তি যিনি উঁচু মেঝ সহ সাং বা মাচাং বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন । যেহেতু আচিক এর মা যিনি প্রথম সাং বাড়িতে বসবাস করার জন্য গিয়েছিলেন তিনিই প্রথম সাংমা হিসাবে পরিচিত হন। অর্থ্যাৎ সাংমা এর অর্থ সাং বাড়িতে যারা বসবাস করে তাদের মা । পরবর্তীকালে আচিক সাধারণত আচিক সাংমা হিসাবে পরিচিত হন।

কালের বিবর্তনে পরবর্তীতে যখন মিসি সালজং এবং আহ-নিং চিনিং এর ছেলেমেয়েদের মধ্যে বিশাল যুদ্ধ সংগ্রাম ঘটেছিল তখন সমগ্র পৃথিবী জুড়ে মহা খরা দেখা গিয়েছিল। পানীয় জলের অভাবের কারণে মানবজাতির অস্তিত্ব বিপন্নের মুখে পড়লো। তাদের বেদনাদয়ক তৃষ্ণা নিবিষ্ট করতে সেই সময় কিছু লোকজন বাধ্য হয়ে হরিণের প্রসব পান করেছিল।

সেই সময়ে, আচিক সাংমার মা যুবতী কর্মঠ ও সুন্দরী ছিলেন এবং তিনি তাঁর সন্তানদের পানি আনার জন্য মিসি সালজং এর আবাস্থলে যাওয়া আসা করতেন। তিনি এতই সুন্দরী ছিলেন যে মিসি সালজং নিজে একসময় তাঁর সাথে ব্যভিচার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন । যার ফলে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। তখন মিসি সালজং এমন কাউকে খুঁজে পেলেন না যার উপর তিনি সেই লজ্জাজনক কাজের দায়ভার চাপিয়ে দি্বেন । এমন লজ্জাকর ও অসম্মানের ভয়ে মিসি সালজং আচিক সাংমার মাকে সনির্বন্ধ অনুরোধ করলেন যে তিনি যেন তাঁকে এই সংকট থেকে মুক্ত হতে সাহায্য করে এবং বললেন “আপনার লোকদেরকে বলুন যে, আপনার পানির অভাবে হরিণের প্রস্রাব পান করার ফলে আপনি সাংমা খুদাম্বককে গর্ভে ধারণ করছেন” । আচিক সাংমার মাতা ঐশ্বরিক প্রণয়ীর পরামর্শ গ্রহণ করলেন । অতএব, সাংমা মাতৃগোষ্ঠীদের সদস্যদের সাধারণত হরিণদের বংশধর বলে গণ্য করা হয় ; যদিও প্রকৃত সত্য যে তাঁরা সাকা মিসি সালজং, মহাকাশের সূর্য-দেবতা এবং সৌর রেসের অন্তর্গত।

মারাক চাচ্চিঃ

আচিক সাংমার বংশধরদের আরেক পুত্র বোহল নামে পরিচিত ছিল । বোহল তাঁর মায়ের ছোট বোনের কন্যার প্রতি প্রগাঢ় ভালবাসা ছিল । শেষ পর্যন্ত বোহল খোলাখুলিভাবে তাকে বিয়ে করতে চাইলো এবং সাত বছর ধরে তাকে বিমোহিত করার চেষ্টা করল। কিন্তু সত্যাশ্রয়ী সতী মাতৃবংশীয় ছোটবোন তাঁর বশ্যতা স্বীকার করেন নি । তিনি কখনও এমন অজাচার পাপ কর্ম স্বপ্নেও ভাবেনি যা অতি নিকট আত্মীয়দের মধ্যে সম্পর্ক । সেটা তাঁর বংশের লোকেদের মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণ্যতম পাপ ছিল। তাঁর ইচ্ছাশক্তির দৃঢ়তার জন্য তাঁকে মারাক নাম দেওয়া হয় । যার অর্থ দৃঢ় এবং কঠোরভাবে পবিত্র যার মা। (মা অর্থ মাতা এবং রাক অর্থ দৃঢ় বা শক্তিশালী )। এর দীর্ঘদিন পর, মারাক বংশধরগণ নিজেদের বংশের সদস্যদের নিয়ে একটি স্বতন্ত্র বংশগোষ্ঠী গঠন করে, যারা সাংমা বংশের সদস্যদের বিয়ে করতে পারবে। সাংমা ও মারাক মাতৃগোষ্ঠীর সদস্যরা আলাদা একটি আচিক গোত্র গঠন করে, যার উপাদানগুলি সাধারণত সাংমা-মা রাঞ্জ-মা এবং মারাক-মা মাকাল-মা নামে পরিচিত।

আচিকের বংশধরগণ পরবর্তীতে মজিব উপত্যকায় বসতি স্থাপন করে । সেখানে তাদের এক শক্তিশালী যোদ্ধা কীম্পল জন্মগ্রহণ করেন । সময়ের আবর্তে তারা সেখান থেকে স্থানান্তর হয়েএবং জিন পাহাড়ে বসতি স্থাপন করে । অন্য পরাক্রমশালী যোদ্ধা ওয়াইব তাদের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেন, যখন তারা সেখানে বসতি স্থাপন করে। এর অনেক বছর পরে তাঁর সেখান থেকে চলে গিয়ে আধুনিক তিব্বতের আসং তিব্বতগিরির চেমাং পাহাড়ে বসতি স্থাপন করে । সেখানে তাঁরা বসতি স্থাপনকালে , বাংকাউলাহ নামে এক প্রখ্যাত যোদ্ধা এবং নওসিমে ও বালসিমে নামে পরিচিত বিখ্যাত মাতৃদ্বয় তাদের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে আচিক জাতির বড় অংশ Ahsong Tibotgiri এর বসতি ছেড়ে চলে যায় কারণ খরায় জমিগুলি ক্রমশ শুকিয়ে অনুর্বর হতে থাকে এবং মাটি চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে গিয়েছিল এবং তারপর তারা সেখান থেকে চলে যায় আসং নেঙ্গাবাদ চিগা নেংচিবাদ (Ahsong Nengabad Chiga Nongchibad) এ বসতি গড়ে, এরপর পুনরায় তারা আসং সাউরা চিগা টিম্বরাত (Ahsong Saoura Chiga Timborate) এ চলে যায় । পরবর্তীতে তারা সে স্থানটি ত্যাগ করে রঙ্গমিক শেরাম তংকা দতরাম এবং আসং বেমাগং চিগা বুদলং(Rongmikseram Tongka Dotram এবং Ahsong Bemagong Chiga Budalong) এ বসতি স্থপন করে।

তারা যখন সেখানে বসতি স্থাপন করে তখন হরিসিংহের কন্যা মেজে রানী নামে একটি সুন্দরী আচিক রাজকন্যা রা-ফা রাধোপা (Rappa Radopa) নামে এক পরাক্রমশালী যোদ্ধাকে বিয়ে করেন। মেজ রানী গাবিল গোত্রের অন্তর্গত ছিলেন, যা মূলত সাংমা মাতৃগোষ্ঠীর। মেজ রানী এর কন্যা আজে, গিলজে, দায়ে এবং চেংশী নামে পরিচিত ছিলেন। রঙ্গমিক শেরাম তংকা দতরাম এবং আসং বেনাগং চিগা বুদলং (Rongmikseram Tongka Dotram এবং Ahsong Bemagong Chiga) পুরো ব্রহ্মপুত্রের দক্ষিণ তীর বর্তমান গোয়ালপাড়া এবং আধুনিক আসামের কামরূপ জেলাগুলি নিয়ে গঠিত ছিল। ১৬৬১ খ্রিস্টাব্দে এই এলাকায় মীর জুমলার আক্রমনের সময় মেজে রানীর দুই কন্যা আজে এবং গিলজে বিহারের মুসলমান সৈনিককে বিয়ে করেন, যার বংশপদবী ছিল মমিন। আজে, গিলজের মুসলিম স্বামীরা বিহারের মমিন সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তাই আজে, গিলজের বংশদ্ভুত সন্তানগ্ণ আচিকদের মধ্যে সর্বপ্রথম মমিন পদবী গ্রহণ করে। এটাই পরে মমিন আজে ও গিল্জের বংশধরদের গোত্রের উপাধি হয়ে যায় । মমিন হল আরবী ভাষা যার অর্থ হল মুসলমান । সেই সময় থেকেই মমিন আচিক জাতির মধ্যে একটি পৃথক মাতৃগোত্র হিসাবে বিদ্যমান আছে।(Rongmuthu, Dewansing 1960) Read more.

COMMENTS

Wordpress (0)
Disqus (0 )
error: Content is Copywrite!